175303409795954 175303409795954 Manas Modak 175303409795954

বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯

মনে পড়ে যায় হারানো ছোটোবেলা

//গ্রাম‍্য ছেলেবেলা//

বৃষ্টিতে ভিজে দৌড়াতে দৌড়াতে স্কুলে যাওয়া।
টালির চালের প্রাইমারি স্কুলে মাটির মেঝেতে বস্তা পেতে ক্লাস করা।
মুক্তি দিদিমনি গলায় "আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে" গানের সুরে গলা মিলিয়ে প্রার্থনা।
টিফিনের সময় দুকানে আঙুল ঢুকিয়ে শব্দ বন্ধ করে সবার হৈচৈ ঠেলা-ঠিলি, খেলা-ধুলোর দৃশ‍্য অতি মজার ছলে উপভোগ করা।
গ্রীষ্মের দুপুরে বন্ধুদের সাথে আমবাগানে ঠিল মেরে আম পেড়ে সবাইমিলে ভাগ করে খাওয়া।
পুকুর পাড়ে উঁচু বালির ঢিবিতে বসে ঘুড়ি ওঠানো।
লুকিয়ে লুকিয়ে বন্ধুদের গুলি খেলে বাবার কাছে বকা খাওয়া।
দুপুরে পুকুরে বন্ধুদের সাথে একসাথে স্নান করা, সাঁতার কাটার প্রতিযোগিতা...

//শহুরে ছেলেবেলা//

বেহালা থানার পাশ দিয়ে আঁকাবাকা গলি পথ দিয়ে তেলের মিলের পাশ দিয়ে বনমালি নস্কর রোডে আমার বড় জ‍্যেঠুর বাড়ি বাবার সাথে প্রায়‌ই যেতাম। সেটাও ছিল আমার ছোটবেলা।
কোন সময় বাসে চড়ে, কখন‌ও কখন‌ও ট্রামে করে যেতাম। বেশ আনন্দ হত।
মনে পড়ে যায় দুপুরে জ‍্যেঠুর বাড়ি খাওয়া দাওয়ার পর বড়দের মাঝে বসে একটু অন‍্যরকমভাবে মহাভারত দেখা। কারণ অতো ছোটবেলায় হিন্দি বুঝতাম না। শুধু ছবি দেখতে এক ঘেঁয়ে লাগত। দুহাতে কান চেপে শব্দ আটকে দিয়ে মহাভারতে প্রত‍্যেক চরিত্রের ঠোঁট নাড়াগুলোকে নিজের কল্পনায় ভাষা দিতাম, আর খুব মজা করে তা উপভোগ করতাম।
বিকেলে গলির মধ‍্যে বেহালায় পাড়ার ছেলেদের সাথে ক্রিকেট খেলার মজা।
সন্ধ‍্যেবেলা জ‍্যেঠুর বাড়ির ছাদে প্রতিবেশী ছেলে-মেয়ে বন্ধুদের সাথে গানের লড়াইতে অংশ নেওয়া। মাঝে মাঝে কুইজ কনটেস্ট, বা শব্দ ধাঁধাও হতো।
পেনসিল স্কেচে ছবি আঁকাটা আমার ছোট থেকেই শখ,তাই বেহালায় বুম্বাদার আঁকার কোচিং গেলেই ঘন্টারপর ঘন্টা বসে আঁকা দেখতাম।
এরপর আমার পিসির বাড়ি সোদপুর, পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা।
বাবার সাথে অনেকবার গিয়েছি। সেটাও অনেকটা পথ। আঁকাবাঁকা গলি পথের শেষে পিসির বাড়ি। প্রায় আমার সমবয়সী ভাগ্নের সাথে ঘুরতে যেতাম। কখন‌ও আবার ঐ পাড়ার শহুরে ছেলে-মেয়েদের সাথে লুকোচুরি খেলতাম।
ঘর বন্দি থাকতে আমার একদম‌ই ভালো লাগতো না। তাই আমি আর ভাগ্নে দুজনে সন্ধ‍্যেবেলা চলে যেতাম অনেকটা দূরে গঙ্গার ঘাটে। সেখানে পাশেই মন্দিরে আরতির সুর, ঘন্টা ধ্বনি আর দুরে লঞ্চ, ভটভটির আলো গুলো আস্তে আস্তে বড় থেকে জোনাকির মতো ছোট হয়ে যাওয়ার দৃশ‍্য আমার কল্পনার রাজ‍্যে জোয়ারের ঢেউ তুলতো। সেই সময়টা আমি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলতাম। এইভাবেই ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যেতো।
আজ আমাদের মফঃস্বলে আধুনিকতার ছোঁয়া। বড় বড় ফ্ল‍্যাট আকাশ ছুঁতে চায়। বালির ঢিবি বা গানের লড়াইয়ের আসর কোনটাই আর নেই।
তাই মনে মনে প্রশ্ন জাগে কোনটা ভালো ছিল? কল্পনার তিলোত্তমা নগরী! গ্রাম বাংলার কল্পনা!

বুধবার, ৮ মে, ২০১৯

মন্দিরের আতঙ্ক


 মন্দিরের আতঙ্ক



আকাশটা তখন মেঘে ঢাকা। তারারাও সেদিন ছুটি নিয়েছিল। রাত তখন গভীর। সময়টা ১১টা হবে। গড়িয়া মোড়ে বাস থেকে নেমে হাঁটতে থাকলাম। নির্জন জনপথ। পথের ধারে দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তার কুকুরগুলো খুব ডাকা ডাকি করছে। হঠাৎ ঢাকঢোল ঘন্টা বাজার আওয়াজ শুনতে পেলাম। মনে হল কোথাও পুজো হচ্ছে। মনে একটু সাহস এলো। তবুও কোথাও তো মানুষ আছে।

আমি এক নই। আরো জোরে জোরে হাঁটতে থাকলাম। আওয়াজটা খুব কাছাকাছি চলে এলাম। কাছেই একটা মন্দির নজরে এলো। স্ট্রীট ল্যাম্পের আলোয় মন্দের  সাদা রঙের চূড়োটা যেন ডাকছে। ভগবানের নাম স্মরণ করে অবশেষে মন্দির সামনে এসে দাঁড়ালাম। দেখলাম। কোন জনপ্রাণী নেই। অথচ কোন একটা অদৃশ্য শক্তি মন্দিরের ঘন্টা ঢাক বাজিয়ে চলেছে। মন্দিরটার ভিতর অন্ধকার। ভালো করে বুঝতে পারছিলাম না ওটা কোন দেবতার মন্দির। মনে মনে ভাবলাম, -- ভগবান এ কোন লীলা আমাকে দেখাতে চাইছেন! ভক্তিভরে সেদিন প্রণাম করে, বাড়ি চলে এলাম। মনে কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই গেল ঘণ্টা, ঢাকটা তবে কে বাজাচ্ছিল।






...
।। কিছুদিন পর । ।

এক সন্ধ্যে বেলা  আবার  সেই মন্দিরের পাশের রাস্তা দিয়ে ফিরছিলাম। দেখলাম সত্যি সত্যিই মহা ধুমধাম করে পূজা-আরতি চলছে। মন্দির চত্বর ভোগ ও নৈবেদ্য, ধুপ ও দীপ, ফুল ফলের গন্ধে কেমন একটা মা মা ভাবের সৃষ্টি হয়েছে।  স্নানীয় অনেক মা-বোনেরা মন্দিরের সামনে জড়ো হয়েছেন। মন্দিরের পুজারি পরনে নামাবলি, শ্বেত বস্ত্র, ভক্তিভরে মন্ত্র উচ্চারণ করে চলেছেন--

"জয়ন্তী মঙ্গলা কালীভদ্রা কালী
কপালিনীদূগা শিবা সমাধ্যাতীসাহা সুধা নমস্তুতে।
ওঁ  নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয়হেতবে , নিবেদয়ামি চাত্মানংত্বং গতিঃ পরমেশ্বরঃ ।
ওঁ কালি কালি মহাকালি কালিকে পাপহারিনি দেবী নারায়ণী নমস্তুতে ,মহিষাঘ্নি মহামায়ে চামুণ্ডে মুণ্ডমালিনী আয়ুরোগয় বিজয়ং দেহি দেবী নমস্তুতে । এষ পুস্পাঞ্জলিঃ শ্রীমদ্দদক্ষিণকালিকায়ৈ নমঃ ।




ঠিক এই সময়---


নজরে এলো, ঢাক ও ঘণ্টার দিকে। মন্দিরের মূল ফটকের ঠিক পাশেই সেটা রাখা আছে এবং সম্পূর্ণ যান্ত্রিক উপায়ে কোনও মানুষ ছাড়াই সেটা বাজানো হচ্ছে। এটা দেখে মনে মনে খুব হাসি পেলো।  সেদিন কি ভয়ই না আমি পেয়ে গিয়েছিলাম। এটা যে আধুনিক যুগ, মানুষ কতো উন্নত। হয়তো সেদিন সেই ঢাক, কাঁসর, ঘণ্টার ছবিটা না দেখে বুঝতেই পারতাম না।




বৃহস্পতিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ভালো থেকো ভালোবাসা


আমি স্পষ্টবাদী, দুষ্টু ছেলে,

অল্পতেই তুষ্ট হ‌ই, তোর ছলনাতে।

গদ‍্যময় জীবন থেকে লিখি কবিতা,

নির্ঘুম থেকেছি রাতের পর রাত।

বুঝিনি প্রেমের মধ্যে রয়েছে অজানা রহস্য।

ছিন্ন করলি মায়াজাল, নিঃশব্দে, নিভৃতে।

 তবুও কষ্ট পাও, চাইনি কোন‌ওদিন,

হারানো সেদিন, বিকেলের পড়ন্তরোদে মনে পড়ে,

এখন বুকের ডান পাশে জমে আছে ব্যাথা;

সিগারেটের ধোঁয়ায় দাগ কাটে  অজানা কতো রোগ।

হেরে গেলেও  ভালবাসি তোমায়,

শেষদিন পর্যন্ত চাইবো ভালো থেকো,

ভালো থেকো ভালোবাসা।

মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৯

ভালো থেকো বন্ধু

অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে চলা, না ভবিষ্যৎ-এর চিন্তা করে বর্তমানকে উন্নত করা। কোনটা করা ঠিক তা সময়ের মাপকাঠিতে বলা খুব কঠিণ।

 গতানুগতিক/আধুনিক নাকি চিন্তাশীলতা কোনটা বর্তমানে প্রয়োজন? কেউ নিজের কৃতিত্বের কথা নিজের মুখে বললে, সেটা হয় অহংকার, আর অপরে বললে সেটা অলংকার? এ কেমন নিয়ম!

 তালে তাল দেওয়া বা তেলা মাথায় তেল দেওয়ার লোকের অভাব নেই, কিন্তু সত‍্যি কথাটা মুখের উপর বলার লোক দূর্বীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সমস‍্যা অনেক থাকতেই পারে, ভুল অনেক থাকতেই পারে কিন্তু একটা শান্তনা বা উৎসাহ দিয়ে ঠিক পথটা ধরিয়ে দেওয়া, ঠিক কাজটা করিয়ে নেওয়ার লোকের অভাব।

জীবনটা একটা ছন্দ, সুর-তালের মোড়ক নয়, যেটা গানের তালে তালে বাজতে থাকবে। জীবনটা একটা সংগ্রাম, আদর্শ অনুসর করে জীবন বিপন্ন করার একটা লড়াই। 



ছোট্ট জীবন, একদিন শেষ হবেই। কিন্তু কিছু কথা , কিছু ভালো  ব‍্যবহার থেকে থেকে যায় স্মৃতির অতল গভীরে। সেই সুখ স্মৃতির পরশ সবাই পায় না। যারা পায় তারা ভাগ‍্যবান।

আমার জীবনটা শুরু হয়ে ছিলো শিক্ষকতা দিয়ে। প্রাইভেট টিউশন থেকে প্রাইভেট স্কুল শিক্ষক। কোন ক্ষেত্রেই পরিশ্রমের খাঁকতি করিনি। কামাই করা আমার ধাতে ছিল না।

 একটি খ্রীষ্টান মিশনারি স্কুল সেন্ট থমাস মার থমা স্কুল। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ‍্যা অল্প হলেও স্কুলটা আমার কাছে ছিলো একটা পরিবারের মতো। একটা মায়ার বন্ধনে সাড়ে ছয় বছর কাটিয়েছিলাম।


অনেক নিয়মানুবর্তিতার মধ‍্য দিয়ে এই স্কুলে শিক্ষকতা করতে হতো। আমি কিছু গতানুগতিকতার উর্ধ্বে উঠে কিছু কাজ করতাম। যেমন প্রতিদিন নিয়ম করে টিফিন টাইমে আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রেণীর অভিভাবকদের সাথে সাক্ষাত করতাম। তাদের সমস‍্যার কথা শুনতাম। এবং একটা ছোট্ট ডাইরিতে নোট করে, সাধ‍্যমতো সমাধান করতাম।

 অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের জন‍্য টিফিন টাইমে নিজে টিফিন না খেয়ে ওদেরকে একস্ট্রা ক্লাস নিতাম । এটা কয়েক বছর করেছিলাম, তাতে অনেক দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নতি হয়েছিলো। কিন্তু কোন কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ মানা করায় বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

আসলে সেই পরিশ্রম‌ও ছিলো গতানুগতিকার বাইরে। ইট-কাঠ-পাথরে বিল্ডিং এ কিভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব সেটাই আমার চিন্তাভাবনা আগেও ছিলো এখন‌ও আছে। লোকে বিদ্রুপ ব‍্যঙ্গ করে আমাকে বলতে পারে পাগল! তাতে আমি কিছু মনে করি না, কারণ মানুষের ভালো করা, মানুষের ভাবাবেগের মূল‍্য দেওয়ার জন‍্য অনেক আত্মত‍্যাগ করতে হয়। যারা করে তারা তো মূল‍্যহীন হবেই! কি বলুন বন্ধুরা?

তবে জনতা-জনার্দনের বিচার সব থেকে বড় বিচার। ১০টা মানুষ টিটকিরি করলেও, বাকি ৯০টা মানুষ কিন্তু বোঝে কোন কাজটা ঠিক আর কোনটা ভুল! 

আমি যদি কিছু ভুল করে থাকি, তার জন‍্য আমি অনুতপ্ত‌। সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আর যদি কিছু ঠিক করে থাকি সেটা আপনাদের আশির্বাদে সম্ভব হয়েছে। স্কুল থেকে অফিস সর্বক্ষেত্রে পুরস্কারের পাশাপাশি তীরস্কার‌ও থাকবে। সহযোগিতার থেকে বেশী প্রতিযোগিতা থাকবে। এটা চিরাচরিত। তবুও মনের কোনে কান্না জমে ওঠে। মনে হয় এ জীবনে কি আছে! কেন আমি বেঁচে আছি? একটু শান্তি পাবো কবে?

আসলে জীবনে আমি বড় ক্লান্ত আবার চিরবিশ্রাম চাই। মাটির কোলে মাথা রেখে চিরনিদ্রায় শয়ন করে যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতিচিহ্নগুলোকে চিরতরে মুছে ফেলতে চাই। ভালো থেকো বন্ধু।@m4tmc Home Posts Reviews Videos Photos Events About Community Jobs Groups Info and Ads Promote Manage Promotions

রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৮

ইচ্ছে ডানা

Image result for ইচ্ছে ডানা কবিতা
আজ একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম। আমি দূরে কোথায় একটা যাবো ! ঠিক জায়গাটার নাম মনে পড়ছে না, জলপাইগুড়ি বা তার আশেপাশে কোথাও একটা হবে। বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন‍্য অপেক্ষা করছি, টিকিট কাটা হয়ে গেছে। কিযেন একটা ভাবতে ভাবতে একটু অন‍্যমনস্ক হয়ে পরেছি। হঠাৎ একটা বাস স্ট‍্যান্ড থেকে বেরিয়েই অতিদ্রুত বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি সেটা দেখে বাসটার পিছনে 
 দৌড়াচ্ছি আর চিৎকার করে বলছি --"থামো থামো"। কনট্রাকটর আমার কথা শুনতেই পাচ্ছে না। 

আমার মতো আমার পিছনে আরেকজন ভদ্রলোক দৌড়াচ্ছেন আর আমাকে ডাকছেন, আমি থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। দেখলাম উনি বলছেন ," দাদা আপনি যে বাসে যাবেন এটা সেই বাস নয়। এই বাসটা দোতলা, আর আপনার ,আমার বাসটা একতলা। " আমি ওনার কথা শুনে আশ্বস্ত হলাম। বুকে প্রাণ ফিরে পেলাম। 

তারপর ঘুম ভেঙে গেল। মনে পরে গেলো, ছোট বেলার এই রকম স্বপ্নের কথা। আমি উঁচু মাটির পাহাড়ের উপর থেকে লাফ দিয়েছি। আর ওড়ার চেষ্টা করছি। কিছুটা উড়তে পারছি ,আর পরে যাচ্ছি। আবার লাফ দিচ্ছি, আবার কিছুটা উড়তে পারছি। 


এই হলো আমার জীবন। একটা ইচ্ছে ডানা । ইচ্ছে পূরণ করতে করতে বারে বারে পরে যাই। আবার উঠে পড়ি ,নতুন উদ‍্যমে চলতে থাকি। আজ‌ও চলছে, আমার পথ চলা। জানি না কখন আমার লক্ষ‍্যে পৌঁছতে পারবো। কিংবা আদৌ পৌঁছতে পারবো কিনা?

বুধবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৮

জীবনালয় স্মৃতি কথা

জীবনালয় স্মৃতি কথা
*****************
পর্ব- ১


আমাদের পাড়ায় হাতেগোনা কয়েকজন পুকুরে স্নান করেন, তাদের  
 মধ্যে আমি  একজন। পুকুরটা আমার বাড়ির থেকে কিছুটা দূরে।
আম,জাম,জামরুল, কাঁঠাল, সুপারি গাছে ঘেরাপুকুর। 

সকালের সোনালী রোদ সুপারি গাছের মাথার উপর দিয়ে পুকুরের জলে পরে ঝিকমিক করছে।



অভ্যাসবশত প্রতিদিনের মতো ঘুম থেকে উঠে স্নান করতে গেলাম। এমনিতেই পুকুর সংলগ্ন বাগানটা ছায়া ঘেরা শান্তির নীড়। নিরবতাই ঐ বাগানের বিশেষত্ব।

 কিন্তু আজ দেখলাম সম্পূর্ণ আলাদা এক পরিবেশ। পাখীর কূজনে আমার অলসদেহ এক মুহূর্তে সজাগ করে দিলো। চারিদিকে কিচিমিচির শব্দ।

 বেশ উচ্চ স্বরে ফিঙে, শালিক, দোয়েল, বৌ-কথাক‌ও, ছাতারে, বসন্তবৌরি , নীলকণ্ঠ, মাছরাঙা,সুইচোরা,চাতক, চোখগ্যালো, কানকুয়া  পাখীর কি যেন একটা গভীর আলোচনায় ব্যাস্ত। 

অনেকক্ষণ ধরে ওদের ভাষাটা বোঝার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না। দূরের গ্রাম থেকে তখন শ্যামা সঙ্গীত ভেসে আসছে ... "সকলি তোমারি ইচ্ছা, ইচ্ছাময়ী তারা তুমি।"

সেটা ছিল একটা স্বর্গীয় পরিবেশ । ছেড়ে আসতে ইচ্ছা করছিলো না । কিন্তু কি করবো! অফিস আছে যে! চলে আসলাম সকলকে বিদায় দিয়ে....                                        

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                     (চলবে)

সোমবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৮

বিজ্ঞাপন

Image may contain: 1 person, shoes
বিজ্ঞাপন ছাড়া সিনেমা/সিরিয়াল দেখেছেন কি কখনো?
না! বিজ্ঞাপন ছাড়া চলচ্চিত্র/সিরেয়াল একঘেয়েমিপূর্ণ। মোটেও চিত্তাকর্ষক হয় না।

ঠিক তেমনি , নেতার পাশে দাঁত বার করে সেল্ফি দেওয়া টাও বিজ্ঞাপনের‌ই অঙ্গ। এটা অন্য ভাবে দেখবেন না।
আসলে মানুষের জীবনটাই একটা বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন ছাড়া নিজেকে জ্ঞাপন বা প্রকাশ করা যায় না। আর নিজেকে প্রকাশ করতে কে চায় না বলুন?

একটা সময় গেছে বিজ্ঞাপন ছাড়াই সব কিছু হতো। একশ্রেণীর মানুষ ছিলো, যারা নিরবে মানুষের জন্য, সমাজের জন্য, রাজনীতির জন্য নিঃশব্দে, নিঃস্বার্থভাবে, ত্যাগের মাধ্যমে কাজ করে গেছেন, তাদেরকে আজ কে-ইবা মনে রেখেছেন। যখন মানুষের প্রয়োজন ছিলো ঐ ব্যাক্তিকে মনে রেখেছেন, যখন প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে সেই মানুষগুলোকে সবাই ভূলে গেছে। এটাই বাস্তব।

তাই বিজ্ঞাপনের বড়ো প্রয়োজন। তবে বিজ্ঞাপন, কাজের থেকে কম হ‌ওয়া ভালো, কিন্তু কোন মতেই মূল কাজ / বিষয়বস্তু থেকে বেশী না হয়ে যায় ,এটা মাথায় রাখতে হবে।

আচ্ছা হাত তুলে বলুনতো! এবারের দূর্গাপূজাতে ঠাকুর দেখতে গিয়ে কে কে সেল্ফি তোলেন নি? কিংবা এবার কালীপূজাতে ঘুরতে গিয়ে কে সেলফি দেবেন না? 
দূরবীন দিয়ে খুঁজে বার করতে হবে।

Image may contain: 1 person, phone and closeup
বর্তমান ডিজিটাল যুগে মানুষ, দামী ক্যামেরা,উন্নতমানের ক্যামেরা কিনছে সেল্ফি তোলার জন্য। সেল্ফি টাও একটা শিল্প। কে কতো সুন্দরভাবে নিজেদের শিল্পপ্রদর্শন করবে সেই নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা।

আমরাও এই বিজ্ঞাপনে অভ্যস্ত হয়ে পরেছি। সমাজ, রাজনীতি , অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ধর্মনীতি,ব্যাবসা- বাণিজ্য প্র‍ত্যেকটা ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন লক্ষ করা যায়।

স্যোসাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনের একটা বড়ো ক্ষেত্র। মেয়েরা নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে, চোখ-নাক-মুখ বেঁকিয়ে সেল্ফির মাধ্যমে। আর সেই ছবি দেখে প্রেম প্রেম ভাবে উদ্বুদ্ধ ছেলেরা হাজারটা লাইক দিলেই মেয়েদের সেই বিজ্ঞাপন দেওয়া স্বার্থক হয়। এক‌ইভাবে ছেলেরা‌ও সেল্ফি দিয়ে থাকে । আবার প্রেমিক- প্রেমিকরা সেলফি দিয়ে পোষ্ট করে সকলের সামনে তাদের প্রেমের গভীরতা প্রমাণ করার জন্য।

গোটা স্যোসাল মিডিয়াটাই একটা বিজ্ঞাপন। শুধু বিজ্ঞাপন বললে বাংলা ভাষাকে ছোট করা হবে, বলবো প্রমাণ পত্র। আমি খাচ্ছি, দাও একটা সেল্ফি, খাওয়ার প্রমাণ । আমি যাচ্ছি, দাও একটা সেল্ফি , যাওয়ার প্রমাণ। আমি ঘুমাচ্ছি ,দাও একটা সেল্ফি ,ঘুমানোর প্রমাণ। আসলে জীবনের প্রতিটা মুহুর্ত আমরা ক্যামেরা বন্দি করতে ভালোবাসি । স্যোসাল মিডিয়া একটা স্টোরেজ। যেটা ভবিষ্যৎ এর জন্য স্মৃতিগুলোর প্রমাণ রাখে। এটা ব্যাঁকা চোখে দেখার কিছু নেই ।

Image may contain: 1 person, indoor

আর যারা যারা তাদের রাজনৈতিক প্রচারে নিজের নামটা লিখে দেন , ঠিক করেন, এই প্রতিযোগিতার যুগে একটা প্রমাণ রাখা ভালো। তা না হলে তার জেরক্স হয়ে অন্যের নামের স্ট্যাম্প পরে যাবে। যেমনটা নেপোয় মারে দই। নিজের নাম লেখাটা কোন নীতি, আদর্শের বিরোধী নয়, বরং আপনার পরিশ্রমের প্রমাণ।

একটা কথা বলছি কেউ অন্যভাবে নেবেন না। ব্রাক্ষ্মণরা বলে থাকেন, গৃহস্থদের ঘরে রান্না করার সময় বেল কাঠ পোড়াতে নেই। কিন্তু কিন্তু এটা কি জানেন? বেলকাঠের আগুনটা অনেকক্ষণ থাকে । অর্থাৎ খুব সুন্দরভাবে বেল কাঠ দিয়ে রান্না করা যায় । তাই ব্রাক্ষ্মণরা এই নিয়ম করেছেন , বেল কাঠ একমাত্র তারাই ব্যবহার করতে পারবেন , অন্য কেউ নয়। এটা ঠিক নয়।

সবাইতো নিজের পয়সায় নেট করে । আপনি আপনার ওয়ালে নিজের সেল্ফি দিতে পারেন, নিজের নাম দেওয়া পোষ্ট করেন ,তাতে অন্য জনের আপত্তি হওয়ার কারণ কেন হবে?

রাস্তায় কেউ অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে পড়ে থাকলে বা কেউ অসুস্থ হয়ে যন্ত্রণায় কাতরালে, তার ছবির সঙ্গে নিজের ছবি না দিয়ে, তাকে আগে বাঁচান। তার পাশে দাঁড়ান। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।সেলফি টেলফি পরে তুলবেন। আমাদের প্রত্যেকের এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যাতে সেলফি শিল্প কলঙ্কিত হয়। পরিশেষে বলবো, চলুক বিঞ্জাপন, উঠুক সেল্ফির ঝড় । তবে মানবিকতা, দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা বজায় চোখে ।